ভারত-বাংলা সিটমহল নিয়ে সমাধান, রেশ কাটেনি দহগ্রাম-আংগোরপোতায়, শঙ্কিত বাসিন্দারা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

ছিটমহল সমস্যার সমাধান শেষ হলেও রেশ থেকে গেছে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সাবেক ছিটমহল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা নিয়ে।

দহগ্রাম-অঙ্গরপোতা আসলে ছিটমহল সমস্যার বাইরের ব্যাপার। এটি একটি স্বতন্ত্র ভূমি যার ভিতর দিয়ে ভারতের এবং বাংলাদেশের আলাদা দুটি রাস্তা আছে। ইন্দিরা-মুজিব সীমান্ত চুক্তি ১৯৭৪ অনুযায়ী, তিনবিঘা করিডোর বাংলাদের চিরস্থায়ী ইজারা পায়, যার আয়তন ০.০১৫ বর্গ কিলোমিটার এবং বিনিময়ে ভারতকে দেয় দক্ষিণ বেরুবাড়ী, যার আয়তন ৭.৩৯ বর্গকিলোমিটার। তাহলে কি দাঁড়ালো? তিনবিঘা করিডোর কার? কে তার মালিক? কে দেখভাল করে? বাংলাদেশ? কিন্তু না সবকিছুই করে ভারত, নামে শুধু আমরা ইজারা নিলাম। আমাদের বিজিবি থাকে বাইরে বেশ কিছুটা দূরে আর ভিতরে সব বিএসএফ, আর তাদের ব্যবহার যে খুব নিচু জাতের সেটা নিশ্চই বলে দিতে হবে না। পুরা তিনবিঘা করিডোর কাটাতারে ঘেরা, শুধু দুই বিপরীত দিকে বাংলাদেশ এবং ভারতের (গেট নেই) দুটি রাস্তার মুখ খোলা থাকে।

১৯৭৪ সালে চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশ সাথে সাথেই দক্ষিণ বেরুবাড়ী ভারতের কাছে হস্তান্তর করে। যদিও ভারত তিনবিঘা করিডোর বাংলাদেশের কাছে রাজনৈতিক কারণে হস্তান্তর করেনি। এটি হস্তান্তরে ভারতের সাংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের অনেক বিরোধিতার পর ২০১১ সালে ভারত পূর্ণভাবে এটি বাংলাদেশকে দেওয়ার বদলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ইজারা হিসাবে দিয়েছিল এই শর্তে যে, একই সময়ে দক্ষিণ বেরুবাড়ি ভারতের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। কাণ্ডটা দেখে মনে হয়, মামা বাড়ির আবদার।

১৯ অক্টোবর,২০১১ সালের পর থেকে এখন ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে, কিন্তু সেখানেও শর্ত প্রযোজ্য। আর সেটা হল, যেখানে ভারতের যানবাহন দিব্যি চলে যাচ্ছে কোন বাধা বিঘ্ন ছাড়াই, সেখানে আমাদের নেমে হেটে যাওয়া লাগে। যে জমি আপনি অতি উচ্চ মূল্যে ইজারা নিলেন সেই জমিতেই আপনার কোন কতৃত্ব নেই, নেই কোন অধিকার। আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমিকতা কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ করে যে, আসলেই কি আমরা ভারত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? যাইহোক, ১৯ অক্টোবর,২০১১ সালে তা-ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপে ২৪ ঘন্টা যাতায়াত এর সুফল তো ভোগ করছে অবহেলিত মানুষজন, যেখানে আগে ১ ঘন্টা পরপর করিডোর দিয়ে বাংলাদেশীদের যাতায়াতের সুযোগ দেয়া হত এবং ৯০ এর দশকের আগে তো যোগাযোগ করার সুযোগ ছিলনা বললেই চলে।

এবার একটু চোখ ফেরাই অন্যদিকে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৯ আগস্ট এখানে ইউনিয়ন পরিষদের শুভ উদ্বোধন ঘটে। কিন্তু এই দহগ্রামের প্রায় ২২,০০০ মানুষের জন্য মাত্র ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল আছে। নেই কোন কলেজ, রয়েছে বেশ কিছু কমিউনিটি ক্লিনিক, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি উচ্চ বিদ্যালয়, ০৪টি বে-সরকারী রেজিঃ প্রাঃ বিদ্যালয়, ১টি কমিউনিটি প্রাঃ বিদ্যালয়, ১টি বেসরকারি কিন্ডার গার্ডেন স্কুল, ২৬টি মসজিদ, ১টি দাখিল মাদ্রাসা, ৬টি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, ১টি পুলিশ ফাঁড়ি, ২টি বিজিবি ক্যাম্প ও ১টি পর্যটন স্থান তিনবিঘা করিডোর ও আঙ্গোরপোতা জিরো পয়েন্ট। (জাতীয় তথ্য বাতায়ন)।

আপনি যখন দহগ্রাম অতিক্রম করবেন তখন অনুভব করতে পারবেন কত যুগ ধরে অবহেলার শিকার এই জনপদ। কত ভঙ্গুর তাদের জীবনব্যবস্থা। আশার কথা হল বর্তমান সরকার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এখানকার টেকসই উন্নয়নের জন্য। তবে ভারতের বিমাতা সুলভ আচরণ অগ্রহণীয় বলে আমি মনে করি।

এই প্রচ্ছদটি লিখেছেনঃ আদমীন হোসেন বাঁধন
( সিনিয়র সহ-সভাপতি, ৫ নং ওয়ার্ড, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দহগ্রাম ইউনিয়ন শাখা )

ফটোঃ bdnews24.com

Share.

একটি রিপ্লে দিন